একটা বিমান… আকাশে উড়ছে… বিমানে ১৮২ জন যাত্রী… তাঁদের অধিকাংশই ইজরায়েলি নাগরিক। গন্তব্য তেল আভিভ। হঠাৎ ককপিটে ভয়ঙ্কর হামলা। পাইলট আক্রান্ত। বিমান আচমকা প্রায় ১৪ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়। ককপিট থেকে কোনও সাড়া নেই। আর ঠিক সেই মুহূর্তে ইজরায়েলে শুরু হয়ে যায় যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি। ফাইটার জেট আকাশে ওড়ে। বন্ধ করে দেওয়া হয় ইজরায়েলের আকাশসীমা। তৈরি হয় কমান্ড সেন্টার। আর পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর হলে সেই যাত্রীবাহী বিমানকে গুলি করে নামানোর প্রস্তুতিও ছিল ইজরায়েলের।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক
চাঞ্চল্যকর এই দাবি সামনে এসেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের-এর রিপোর্টে। সূত্রের দাবি, বিমানটি যদি তেল আভিভের দিকে এগিয়ে আসত এবং সেটিকে হাইজ্যাক করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া যেত, তাহলে শেষ পর্যন্ত সেটিকে গুলি করে নামানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারত।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ককপিটে ভারতীয় ক্যাপ্টেনের ওপর ওমানি সহ-পাইলট হামাম আল হামামি হামলা চালানোর পর মুহূর্তের মধ্যে বিমানটি মাঝআকাশে ১৪ হাজার ফুট নীচে নেমে আসে। সেই সময় ইজরায়েলি বিমানবাহিনী ককপিটের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনও সাড়া পায়নি। এর পরপরই ইজরায়েলে জরুরি কমান্ড সেন্টার গড়ে তোলা হয়, সম্পূর্ণ আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য ইজরায়েলি ফাইটার জেট মাঝআকাশে উড়িয়ে দেওয়া হয়। তবে বিমানটি সৌদি আরবের দিকে ঘুরে যাওয়ায় ইজরায়েল নিজের যুদ্ধবিমান ফিরিয়ে নেয় এবং রিয়াদ নিজস্ব ফাইটার জেট পাঠায়।
এদিকে সেই সময়েই জখম ভারতীয় ক্যাপ্টেন কোনওমতে ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হলে বিমানে থাকা ইজরায়েলি যাত্রী এবং ফ্লাইদুবাই ক্রু সদস্যরা একজোট হয়ে অভিযুক্ত ওমানি চালককে কাবু করেন। দুজন অফ ডিউটি পাইলট বিমানটির চালকের আসনে বসেন।
সিবিএস নিউজের রিপোর্ট অনুযায়ী, বিমানটি যদি ইজরায়েলের বেন গুরিয়ান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্ধারিত রেডিয়াসের কাছাকাছি চলে আসত, তবে ইজরায়েল সঙ্গে সঙ্গেই জর্ডানের আকাশসীমায় যুদ্ধবিমান পাঠিয়ে দিত। ইজরায়েলি ফাইটার পাইলটরা ফ্লাইদুবাই বিমানের ককপিটের একদম কাছে গিয়ে ককপিটের ভেতর চালকদের অবস্থা চোখে দেখে যাচাই করার চেষ্টা করতেন।
যদি দেখা যেত কেবিনের ভেতর চরম আতঙ্কের পরিস্থিতি, তবে ফাইটার পাইলটরা সেই বার্তা ইজরায়েলি বিমানবাহিনী ও পূর্বনির্ধারিত একটি বিশেষ কমিটিকে জানাতেন। নিশ্চিত হওয়া গেলে যে বিমানটি হাইজ্যাক হয়েছে এবং ককপিট রেডিও নীরবতা বজায় রাখছে, তখন সেই কমিটি সরাসরি ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করত। ইজরায়েলের নিয়ম অনুযায়ী, চরম বিপদের মুখে যাত্রীবাহী বা শত্রুভাবাপন্ন অসামরিক বিমানকে ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ধ্বংস করার চূড়ান্ত ক্ষমতা একমাত্র দেশের প্রধানমন্ত্রীর হাতেই থাকে।
ইজরায়েলি সূত্রের দাবি, বিমানটি তেল আভিভের আকাশচুম্বী ইজরায়েলি টাওয়ার কিংবা বিমানবন্দরে আছড়ে পড়লে শত শত মানুষের মৃত্যু হতে পারত। সেই ভয়াবহ ধ্বংসলীলা এড়াতে ১৫০ জন ইজরায়েলি যাত্রীসহ বিমানটি মাঝআকাশেই গুলি করে নামানোকে তুলনামূলক কম ক্ষতিকারক বলে ধরে নেওয়া হয়েছিল।
অভিযুক্ত ওমানি সহ-পাইলট হামাম আল হামামিকে আপাতত সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে রাখা হয়েছে। জরুরি অবতরণের পর প্রথমে সৌদি কর্তৃপক্ষ এবং এখন UAE-তে দ্বিতীয় দফায় তাকে জেরা করা হচ্ছে। এই যৌথ তদন্তে অংশ নিতে ইজরায়েলও নিজস্ব প্রতিনিধি ও গোয়েন্দা টিম পাঠিয়েছে।
জেরুজালেম পোস্ট-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, হামলার কয়েক মাস আগেই ইজরায়েলে কোন কোন বিমান ওড়ে তা নিয়ে বিশদ পড়াশোনা করেছিল আল হামামি। এমনকি সে ইজরায়েল সফরও করে। জেরায় হামামি স্বীকার করেছে, তেল আভিভে ওড়া সব সংস্থায় চাকরির চেষ্টা করেছিল। সেই কারণেই ফ্লাইদুবাই বেছে নেয়। চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগেই তার এই ছক তৈরি ছিল। এদিকে, দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও একজন ওমানি পাইলট কীভাবে ইজরায়েলগামী বিমান চালানোর ছাড়পত্র পেল, তা নিয়ে ইজরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ও শিন বেট -এর ওপর চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।