
আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রাক্তন প্রধান মহম্মদ ইউনুসকে ঘিরে বিতর্ক এ বার নিউ ইয়র্কের বিমানবন্দরে। জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে তাঁকে দেখে ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলে কটাক্ষ করলেন এক ব্যক্তি। বাংলাদেশে গণতন্ত্র ধ্বংস করা এবং হাজার হাজার পুলিশকর্মীকে হত্যার অভিযোগও তোলা হয় তাঁর বিরুদ্ধে। ঘটনার ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে আলোচনা।
২০২৪ সালের অগস্টে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নিয়েছিলেন ইউনুস। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সেই পদে ছিলেন তিনি। অভিযোগ, তাঁর শাসনকালে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর হামলা এবং মৌলবাদী গোষ্ঠীর দাপট বেড়েছিল। যদিও ইউনুসের সরকার একাধিক ঘটনাকে আইনশৃঙ্খলাজনিত সমস্যা হিসাবে ব্যাখ্যা করেছিল এবং সংখ্যালঘুদের উপর পরিকল্পিত নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছিল।
সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়োয় এক ব্যক্তিকে ইউনুসের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, “আপনি জঙ্গি, এখানে কেন এসেছেন?” বাংলাদেশের গণতন্ত্র ধ্বংস এবং বহু পুলিশকর্মীকে হত্যার অভিযোগও করেন তিনি। ওই ব্যক্তিকে প্রবাসী বাংলাদেশি বলে মনে করা হচ্ছে। ভিডিয়োয় দেখা যায়, ইউনুসকে দ্রুত হুইলচেয়ারে করে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের শীর্ষ সহযোগীদের কয়েক জন, তাঁদের মধ্যে লামিয়া মুর্শেদও ছিলেন।
ইউনুসের আমলে বাংলাদেশে হিন্দু-সহ সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে বার বার প্রশ্ন উঠেছে। হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারি এবং পোশাক কারখানার কর্মী দীপু চন্দ্র দাসকে গণপিটুনি দিয়ে পুড়িয়ে মারার ঘটনা আন্তর্জাতিক স্তরে উদ্বেগ তৈরি করেছিল। তবে ইউনুসের সমর্থকেরা এই ঘটনাগুলির দায় তাঁর সরকারের উপর চাপানোর বিরোধিতা করেছেন।
ঘটনার নিন্দা করেছে বাংলাদেশের ন্যাশনাল সিটিজ়েন পার্টির সঙ্গে যুক্ত প্রবাসী সংগঠন এনসিপি ডায়াসপোরা অ্যালায়েন্স ইউএসএ। তাদের দাবি, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমর্থকেরা ইউনুসকে হেনস্থা করেছেন। সংগঠনটি জানিয়েছে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে একই বিমানবন্দরে ইউনুসের সফরসঙ্গীদের লক্ষ্য করেও ডিম ছোড়া হয়েছিল। তবে বিমানবন্দরের সাম্প্রতিক ঘটনার বিষয়ে ইউনুসের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।