রাষ্ট্রসংঘে ভারত চিনকে বার্তা নেপালের

ভারত ও চিনের সঙ্গে মিলে হিমালয়কে রক্ষা করবে নেপাল এমন প্রস্তাবও দিয়েছেন বালেন্দ্র।

প্রাকৃতিক বিপর্যয় শুধু নদীর জল বাড়ায় না সামনে নিয়ে আসে একটি দেশের অসহায়তাও। আর সেই অসহায়তার কথাই এবার পৌঁছে গেল বিশ্বের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক মঞ্চে। নেপালের ভয়াবহ হড়পা বান, সীমান্ত পেরিয়ে আসা সংকট ও ছোট ও উন্নয়নশীল দেশগুলির সমস্যার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভায় সরব হলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ। শুধু নেপালের পরিস্থিতি নয় তাঁর বক্তব্যে উঠে এল ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ভুটান, মলদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কার মতো প্রতিবেশী দেশগুলির কথাও। আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার কোথায় গলদ, আর কেন তার সবচেয়ে বড় চাপ এসে পড়ছে সাধারণ মানুষের উপর রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে সেই প্রশ্নই তুলে ধরলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী।

নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভার ৮১ তম অধিবেশন চলছে। আর সেই অধিবেশনেই নেপালের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে দিচ্ছেন ৩৬ বছর বয়সি নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। চলতি বছরে রাষ্ট্রসংঘে বক্তব্য রাখা কনিষ্ঠতম রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তাঁর বক্তব্য স্বাভাবিকভাবেই নজর কেড়েছে। তবে তাঁর বক্তৃতার কেন্দ্রবিন্দু ছিল কোনও রাজনৈতিক বিতর্ক নয় বরং প্রাকৃতিক বিপর্যয়, খাদ্য ও জ্বালানির নিরাপত্তা ও উন্নয়নশীল দেশগুলির বাস্তব সমস্যা। হিমালয় পর্বত এলাকায় পরিবেশগত সমস্যা বাড়ছে এবং সেটা গোটা বিশ্বের জন্য চিন্তার কারণ। ভারত ও চিনের সঙ্গে মিলে হিমালয়কে রক্ষা করবে নেপাল এমন প্রস্তাবও দিয়েছেন বলেন্দ্র।

নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানের পর থেকেই এই বিষয়টি আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বালেন্দ্র শাহ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই বিপর্যয়ে প্রায় দেড় হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। পাহাড়ি নদীর আচমকা জলস্তর বৃদ্ধি ও প্রবল স্রোতে বহু এলাকা কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। বহু মানুষের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে এবং স্বাভাবিক জনজীবন ভেঙে পড়েছে। এমন একটি কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেই রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে দাঁড়িয়ে নেপালের মানুষের সমস্যাকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরলেন তিনি।

তাঁর প্রশ্ন, যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় অস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্র, রাইফেল কিংবা গোলাবারুদ যদি খুব দ্রুত এক দেশ থেকে অন্য দেশে পৌঁছে যেতে পারে, তাহলে সাধারণ মানুষের জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি কিংবা কৃষকের সার কেন সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় পৌঁছতে পারে না?

এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র ঠিক সময়ে তার গন্তব্যে পৌঁছে যায়। রাইফেল ও গোলাবারুদও নানা বাধা পেরিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে চলে যায়। কিন্তু নেপালের একজন সাধারণ কৃষক প্রয়োজনের সময় বাজারদরে সার কিংবা জ্বালানি পান না। তাঁর বক্তব্য, আমরা এমন একটি পৃথিবী তৈরি করেছি, যেখানে যুদ্ধের জন্য অত্যন্ত নিখুঁত সরবরাহ ব্যবস্থা রয়েছে, অথচ খাদ্যের জন্য সেই ব্যবস্থা নেই। এ প্রসঙ্গে বলতে গিয়েই প্রতিবেশী উন্নয়নশীল দেশগুলির কথা টানেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এটা নেপালের নিজস্ব কোনও সমস্যা বা দুর্ভাগ্য নয়। বাংলাদেশকে জিজ্ঞেস করুন, ভুটান, ভারত, মলদ্বী, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাকে জিজ্ঞেস করুন। এই অঞ্চলের যে কোনও দেশকে প্রশ্ন করলেই এক উত্তর পাবেন।

রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে নেপালের প্রধানমন্ত্রী শুধু সমস্যার কথা বলেননি, সমাধানের একটি প্রস্তাবও দিয়েছেন। প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলায় ভারত, চিন এবং নেপালকে নিয়ে একটি হিমালয় জলবায়ু সহনশীল ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। নেপালের সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের সময় প্রতিবেশী দেশগুলির সাহায্যের কথাও তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে। বিশেষ করে কঠিন সময়ে ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়ে নেপালের পাশে থাকার জন্য ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী।