স্মিতের পরিবারের সঙ্গে কথা মোদীর

মাঝ আকাশে কো-পাইলটের হামলা। গুরুতর আহত হয়েও ককপিটের দরজা খুলে যাত্রীদের বাঁচানোর পথ করে দিয়েছিলেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। তাঁর সাহসিকতার প্রশংসা করে এ বার স্মিতের স্ত্রী ও বাবা-মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সূত্রের খবর, কথোপকথনে স্মিতের চিকিৎসা এবং পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক

বুধবার দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 বিমানে ঘটনাটি ঘটে। ককপিটে কো-পাইলটের সঙ্গে স্মিতের ধস্তাধস্তির পর তিনি গুরুতর আহত হন। অভিযোগ, তাঁকে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল। সেই অবস্থাতেও ককপিটের দরজা খুলে দেন স্মিত। এর পর বিমানে থাকা যাত্রী এবং অতিরিক্ত পাইলটেরা ককপিটে ঢুকে পরিস্থিতি সামাল দেন। বিমানটি পরে সৌদি আরবের তাবুকে নিরাপদে অবতরণ করে। বর্তমানে সেখানকার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্মিত।

এর আগে সমাজমাধ্যমে স্মিতকে ‘হিরো’ বলে অভিহিত করেছেলেন মোদী। তিনি লিখেছেন, ভয়াবহ বিপদের মধ্যেও গুরুতর আহত অবস্থায় স্মিত যে সাহস এবং দৃঢ়তা দেখিয়েছেন, তাতেই বহু মানুষের প্রাণ রক্ষা পেয়েছে।

স্মিতের প্রশংসায় পঞ্চমুখ বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, সৌদি আরবে ভারতীয় মিশন স্মিতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং তাঁর চিকিৎসা নিয়ে সে দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছে।

গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র পাটেল এবং মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীসও স্মিতের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন। কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রী রাম মোহন নাইডুও জানিয়েছেন, স্মিতের উপস্থিত বুদ্ধি এবং সাহস গোটা দেশের গর্ব।

স্মিতের প্রাক্তন সংস্থা স্পাইসজেটের কর্ণধার অজয় সিংও তাঁর প্রশংসা করেছেন। তাঁর কথায়, পাইলটের দায়িত্বই হল বিমানে থাকা মানুষের জীবন রক্ষা করা—স্মিত সেই দায়িত্বই পালন করেছেন।

১৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে স্মিতের। প্রায় ৯,৭৫০ ঘণ্টা উড়ান চালিয়েছেন তিনি। ২০২২ সালে ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেওয়ার আগে ১১ বছর স্পাইসজেটে কাজ করেছেন। ঘটনার তদন্ত চলাকালীন ইজরায়েলগামী উড়ান সাময়িক ভাবে বন্ধ রেখেছে ফ্লাইদুবাই।