বীর পাইলট স্মিতকে ফোনে কী বললেন মোদী?

দুবাই থেকে তেল আভিভগামী উড়ানে মাঝ আকাশে সহ-পাইলটের হামলা। গুরুতর আহত হয়েও ককপিটের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে ১৮০ জন যাত্রীর প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার। তাঁর সেই সাহসিকতার প্রশংসা করে এ বার সরাসরি ফোনে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুক্রবার ফোনে স্মিতের কাছ থেকেই গোটা ঘটনার বিবরণ শোনেন তিনি। কী ভাবে সেই ভয়াবহ পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছিলেন, কী তাঁকে সাহস জুগিয়েছিল—সবই জানান পাইলট। তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করার পাশাপাশি সাহসিকতার জন্য তাঁকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক

সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত দীপক মিত্তলও হাসপাতালে গিয়ে স্মিতের সঙ্গে দেখা করেছেন। তাঁর পরিবারের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। পরে প্রসার ভারতীকে মিত্তল জানান, স্মিতের শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল। তাঁর কথায়, ‘‘ওঁকে বেশ ভালই দেখলাম। হাসছিলেন, এমনকি কথায় কথায় হাসিওছিলেন।’’ আহত হাত নিয়ে কিছুটা অস্বস্তি থাকলেও চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন ভারতীয় পাইলট। দূতাবাসও তাঁর চিকিৎসা ও পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।

বৃহস্পতিবারই স্মিতের সাহসিকতার প্রশংসা করেছিলেন মোদী। তাঁর কথায়, গুরুতর আহত অবস্থাতেও স্মিত যে ধৈর্য, উপস্থিত বুদ্ধি এবং সাহস দেখিয়েছেন, তা গোটা দেশের কাছে গর্বের। প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, স্মিতের বাবা ভূপেন্দ্রভাই, মা গীতাবেন এবং স্ত্রী সোনলবেনের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন।

এর মধ্যেই সামনে এসেছে ঘটনার আরও ভয়াবহ ছবি। ইজ়রায়েলের চ্যানেল ১২ প্রকাশ করেছে বিমানের ভিতরের নতুন ভিডিয়ো। সেখানে যাত্রীদের চিৎকার, আতঙ্ক এবং সাহায্যের জন্য আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে। এক যাত্রীকে বলতে শোনা যায়, সহ-পাইলট বিমানটি ভেঙে ফেলতে চেয়েছিলেন। অন্যেরা ককপিট থেকে হামলাকারীকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য চিৎকার করতে থাকেন।

ভিডিয়োয় দেখা যায়, রক্তাক্ত অবস্থায় ককপিটের বাইরে পড়ে রয়েছেন স্মিত। হামলার পরেও তিনি ককপিটের দরজা খুলে দিতে সক্ষম হন। পরে এক যাত্রী তাঁকে চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করেন। জরুরি অবতরণের পর সৌদি আরবের মাটিতে চিকিৎসকেরা তাঁর চিকিৎসা শুরু করেন।

ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে। ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, হামলাকারী সহ-পাইলট ‘ইসলামপন্থী উগ্রপন্থী মতাদর্শে’ প্রভাবিত হয়েছিল। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ইজ়রায়েলি তদন্তকারীরাও সেই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছেন। এই হামলার পিছনে ঠিক কী উদ্দেশ্য ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তবে তদন্তের পাশাপাশি আপাতত আলোচনার কেন্দ্রে একটাই নাম—ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার। মাঝ আকাশে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে তাঁর দ্রুত সিদ্ধান্তই বড়সড় বিপর্যয় এড়াতে সাহায্য করেছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের বক্তব্য।