‘‘যখনই আমি যন্ত্রণায় থাকি, হনুমান চালিসা পাঠ করি। সেই সময়ও আমি হনুমান চালিসা পাঠ করছিলাম। আমি জানি, ঈশ্বরই আমাকে বাঁচিয়েছেন।’’ মোদীর সঙ্গে কথোপকথনে জানালেন পাইলট স্মিত।

ককপিটের ভিতরে তখন মরণপণ লড়াই। সহ-পাইলটের হাতে ছুরি, গুরুতর জখম হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে গিয়েছেন পাইলট। কিন্তু নিজের প্রাণের কথা না ভেবে যাত্রীদের বাঁচানোর লড়াই চালিয়ে গিয়েছিলেন ফ্লাইদুবাইয়ের ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছর। ১৭০-রও বেশি যাত্রীর প্রাণ বাঁচিয়ে এখন তিনি আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত। আর সেই সাহসের নেপথ্যে ছিল ‘হনুমান চালিসা’— প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ফোনালাপে নিজেই জানালেন স্মিত।
সংযুক্ত আরব আমিরশাহির হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্মিতকে ফোন করেন মোদী। কথোপকথনে পাইলট জানান, ‘‘যখনই আমি যন্ত্রণায় থাকি, হনুমান চালিসা পাঠ করি। সেই সময়ও আমি হনুমান চালিসা পাঠ করছিলাম। আমি জানি, ঈশ্বরই আমাকে বাঁচিয়েছেন।’’
স্মিতের সাহসিকতার প্রশংসা করে মোদী বলেন, ‘‘আপনি নিজের জীবনের জন্য লড়ছিলেন। কিন্তু সেই সময় নিজের কথা ভাবেননি। বিমানে থাকা প্রত্যেক মানুষের জীবন নিয়ে চিন্তা করেছেন।’’ প্রধানমন্ত্রীর কথায়, তাঁর এই সাহসিকতায় দেশ গর্বিত।
মোদীর ফোন পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন স্মিত। বলেন, ‘‘আপনি আমার সবচেয়ে বড় আদর্শ। আপনার ফোন পেয়ে আমি খুব গর্বিত বোধ করছি।’’ জবাবে মোদী তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, তাঁর সাহসিকতার কথা ভারত-সহ গোটা বিশ্বের মানুষ জানতে চাইছেন।
স্মিত জানান, প্রতিদিন সকালে তিনি প্রার্থনা করেন। তাঁর দু’বছরের ছেলেও সেই প্রার্থনার সময় তাঁর কোলে থাকে। ছেলেকে তিনি হনুমান চালিসা শেখান। তাঁর কথায়, ‘‘দেশ থেকে দূরে থাকলেও নিজেদের ঐতিহ্য থেকে দূরে নই।’’
ঘটনার দিন দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাই বিমানের ককপিটে আচমকাই স্মিতের উপর হামলা করেন তাঁর ওমানি সহ-পাইলট। ছুরির আঘাতে গুরুতর জখম হয়েও তিনি হাল ছাড়েননি। ককপিটের দরজার খুলে দেন। ফলে যাত্রীরা ভিতরে ঢুকে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। স্মিতের উপস্থিত বুদ্ধি এবং অসীম সাহসেই প্রাণে বাঁচেন বিমানে থাকা ১৭০-রও বেশি মানুষ।