ভুটানে হিমবাহ হ্রদ ভেঙে বন্যার আশঙ্কা, ভারতকে সতর্কবার্তা

মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে ভুটানের গাসা জেলার চিন্তাফু হিমবাহ হ্রদ ভেঙে পড়েছে। এই হ্রদ থেকেই উৎপত্তি হয়েছে মোচু নদীর। হ্রদ ভেঙে যাওয়ার ফলে ভুটানের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ভারতকেও সতর্ক করেছে ভুটান।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক

ভুটানের সতর্কবার্তার পরই তৎপর হয়েছে এ রাজ্যের প্রশাসন। জলসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক এবং উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের তরফেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষভাবে নজরদারি চালানো হচ্ছে উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলায়। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করা হচ্ছে।

পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকার সমস্ত নদীর জলস্তরের উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। জলপাইগুড়ি জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিটি থানাকে প্রতিদিন পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু উত্তরবঙ্গই নয়, অসমের ধুবড়ি জেলা এবং সংলগ্ন এলাকাতেও বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে প্রশাসন।

ভুটানের হিমবাহ হ্রদ ঘিরে ফের বন্যার আশঙ্কা, আতঙ্কে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা–

ভুটানের বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত ১৭টি হিমবাহ হ্রদের মধ্যে অন্যতম শিন্টাফু। অতীতেও এই হ্রদকে কেন্দ্র করে বড়সড় বিপর্যয় ঘটেছে। ২০২১ সালের ২৬ অগস্ট হ্রদের জলস্তর আচমকা বেড়ে যাওয়ায় মো ছু নদীতে হড়পা বান নেমেছিল। প্রবল জলস্রোতে নদীর গতিপথও বদলে যায়। সেই সময় নদীর জলে ভেসে গিয়েছিল একটি উষ্ণ প্রস্রবণও।

এবার ভুটানে হড়পা বানের আশঙ্কা তৈরি হতেই সতর্ক হয়েছে উত্তরবঙ্গের ভুটান সীমান্তবর্তী জেলাগুলির প্রশাসন। বন্যার সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে সঙ্কোশ নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে ত্রাণশিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়। আতঙ্কে অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে জাতীয় সড়কের উপর রাত কাটান। তবে শুক্রবার সকালে সঙ্কোশ নদীর জলস্তর ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখে কুমারগ্রাম ব্লকের বেশ কিছু বাসিন্দা বাড়ি ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। ইতিমধ্যেই কয়েকজন বাড়ি ফিরতেও শুরু করেছেন।

অন্যদিকে, ভুটানের হড়পা বানের আশঙ্কার কথা জানিয়ে কেন্দ্রীয় জলসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক এবং রাজ্যের উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের তরফে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিকে সতর্ক করা হয়েছে। এরপর থেকেই নদীগুলির জলস্তরের উপর নিয়মিত নজরদারি চালাচ্ছে প্রশাসন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নদী সংলগ্ন এলাকাগুলিতে মাইকিং করে বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়। পাশাপাশি, যে কোনও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিভিক ভলান্টিয়ার, ভিলেজ পুলিশ এবং সিভিল ডিফেন্স কর্মীদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে এবং আপৎকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা প্রস্তুত রয়েছে। উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকও জানিয়েছেন, যে কোনও জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।