আকাশে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে আনলেন ক্যাপ্টেন!

মাথায় একের পর এক আঘাত। চোখের সামনে ক্রমশ অন্ধকার নেমে আসছে। তবু শেষ মুহূর্তে ককপিটের দরজা খোলার চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। তাঁর সেই সাহসিকতাতেই ভয়াবহ বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন বিমানের ১৮০ জন যাত্রী। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে ঘটে যাওয়া সেই শিউরে ওঠা ঘটনার কথা এ বার প্রকাশ্যে আনলেন ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর। তাঁর দাবি, সহ-পাইলটের হামলায় জ্ঞান হারানোর আগেই ককপিটের দরজা খোলার চেষ্টা করেছিলেন তিনি।

সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ন্যাশনাল’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যাপ্টেন জানান, প্রথমে মাথায় আঘাত লাগতেই তাঁর মনে হয়েছিল, বিমানের কাঠামোর কোনও অংশ ভেঙে মাথায় পড়েছে। কিন্তু পর মুহূর্তেই বুঝতে পারেন, হামলা চালাচ্ছেন তাঁরই সহকর্মী। নিজেকে সিটবেল্ট থেকে মুক্ত করে আঘাত আটকানোর চেষ্টা করেন তিনি। একের পর এক আঘাতে দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে আসছিল। শেষ পর্যন্ত ককপিটের দরজা খোলার নবের দিকে হাত বাড়িয়ে সহকর্মীদের সাহায্যের জন্য চিৎকার করেন। তার পরেই জ্ঞান হারিয়ে মুখ থুবড়ে পড়েন ককপিটের ভিতরে।

ক্যাপ্টেনের কথায়, বিমানটি যখন প্রায় ১৭ হাজার ফুট নীচে নেমে যাচ্ছিল, তখন ইঞ্জিনের গতি কমে যাওয়ার শব্দই ছিল তাঁর কাছে সবচেয়ে ভীতিকর। ওমানের সহ-পাইলট হামাম আল-হাম্মামি তাঁকে কুড়ুল দিয়ে আক্রমণ করেছিলেন বলে অভিযোগ। বিমানটিকে ইচ্ছাকৃত ভাবে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে ককপিটের দরজা খুলে দিতে সক্ষম হন স্মিত। এর পর যাত্রী এবং বিমানে থাকা অন্য কর্মীরা ভিতরে ঢুকে হামলাকারীকে কাবু করেন। বিপদবার্তা পাঠানোর পর বিমানটির গতিপথ বদলে সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করানো হয়। যাত্রীদের সহায়তায় বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করে। সকল ১৮০ জনই অক্ষত অবস্থায় নেমে আসেন।

বর্তমানে আবু ধাবির জায়েদ সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্মিত। ঘটনার পরেও বিমান চালানোর প্রতি তাঁর ভালবাসা অটুট। সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসাবে তাঁকে ইজরায়েলের প্রেসিডেন্সিয়াল অ্যাওয়ার্ড ফর সিভিলিয়ান হিরোয়িজম এবং গুজরাত সরকারের ‘বিশিষ্ট গুজরাত গরিমা’ সম্মান দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।