প্রশান্ত-আটলান্টিকের নাম বদলাতে চান ট্রাম্প! প্রস্তাব ঘিরে বিশ্বজুড়ে চর্চা

বিশ্বমঞ্চে নিজের দেশের একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তি বা জোট থেকে সেনা ও সহায়তা প্রত্যাহারের কারণে তিনি বারবার আলোচনায় এসেছেন।তাঁর আক্রমণাত্মক ও প্রচলিত ধারার বাইরের রাজনৈতিক বক্তব্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার এবং বিভিন্ন সময়ে নেওয়া বিতর্কিত সিদ্ধান্ত সবসময় বিশ্ব গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়।এবার একটা গোটা মহাসাগর নিজের নামে রাখার প্রস্তাবে নয়া আলোচনায় তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ডে ডোলান্ড ট্রাম্পের কথা বলছি। মহাসাগরের নাম নিজের নামে রাখার প্রস্তাবটা ঠিক কি? এই প্রস্তাবের জেরে নতুন করে কি বিতর্কে জড়ালেন মার্কিন প্রেডিডেন্ট? তাঁর এই সিদ্ধান্তের পিছনে ঠিক কি কারন থাকতে পারে? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর তো খুঁজবও। সেই সঙ্গে তুলে ধরব আরও বেশ কিছু তথ্য।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক

মাত্র কয়েকমাস আগের ঘটনা।নিজের ট্রুথ স্যোশ্যাল প্লাটফর্মে এআই ব্যবহার করে একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যেখানে নিজেকে সাদা পোশাকে যীশু খ্রিষ্টের মতো অবয়বে একজন অসুস্থ মানুষকে সুস্থ করতে দেখা যায়। এই পোস্টের পর খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী ও রক্ষণশীল রাজনীতিকদের একাংশ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে “ঈশ্বরকে উপহাস” ও ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তোলেন। ওকাকিবহাল মহলের মতে, যে মানুষটি নিজেকে ঈশ্বর ভেবে বসে আছেন। তার পক্ষে নিজের নামে মহাসাগরের নামকরনের কথা ভাবা খুব একটা চমকানোর মতো বিষয় নয়। এর আগে একাধিকবার হরমুজ প্রণালীর নাম বদলে তা নিজের নামে রেখেছেন তিনি। খাঁড়ি পেরিয়ে এবার ট্রাম্পের নজর পড়ল মহাসাগরের দিকে। মজার ছলে হলেও এবার দুই মহাসাগর প্রশান্ত ও আটলান্টিক নাম বদলে তা নিজের নামে রাখার প্রস্তাব করলেন তিনি। প্রস্তাব দিলেন, এই দুই মহাসাগরের নাম বদলে ‘ট্রাম্প ওশিয়ান’ এবং ‘ওশিয়ান অফ দ্য আমেরিকাস’ রাখা যেতে পারে। ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়ার আগে আমেরিকার নিজস্ব মহাসাগর ও একটি বড় নদী থাকা উচিত।

প্রশ্ন হচ্ছে ঠিক কি ভাবনা ট্রাম্পের? আগামী ৩ নভেম্বর আমেরিকায় হতে চলেছে মধ্যবর্তী নির্বাচন। সেই উপলক্ষে শনিবার টেনেসির ক্লারসভিলেতে জনসভায় বক্তব্য রাখছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেখানেই তিনি জানান, আমেরিকার একটি নদী দরকার। একটি মহাসাগরও দরকার। জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, “দুটি মহাসাগরের যে কোনও একটির নাম বদলে দেওয়া যেতে পারে। সেই নামটি ‘ট্রাম্প মহাসাগর’ বা ‘আমেরিকা মহাসাগর’ এই ধরনের কিছু একটা দেওয়া যেতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি। ট্রাম্পের এহেন মন্তব্য শুনে উপস্থিত জনতার মধ্যে হাসির রোল ওঠে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট তখন বলে ওঠেন,তিনি সরে যাওয়ার আগে মানে প্রেসিডেন্ট হিসাবে মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে, তার মনে হয়, এটা করা দরকার। অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট হিসাবে মেয়াদ শেষের আগেই একটি নদী এবং একটি মহাসাগরের নাম বদল করতে উদগ্রীব ট্রাম্প।

‘আমেরিকা ফার্স্ট’ স্লোগানকে উসকে দিয়ে এবং ভূ-রাজনৈতিক নামগুলোর মধ্যে আমেরিকার প্রভাব জাহির করতে তিনি এর আগেও মেক্সিকো উপসাগরের নাম বদলে ‘আমেরিকা উপসাগর’ করেছেন। যা নিয়ে মেক্সিকোর সঙ্গে তীব্র কূটনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়।পাশাপাশি কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য ও শুল্ক নিয়ে বিরোধের জেরে তিনি অন্টারিও হ্রদের নাম পরিবর্তন করে লেক আমেরিকা করার সিদ্ধান্ত নেন। অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক বা আঞ্চলিক বিরোধের সময় এমন প্রতীকী পদক্ষেপকে রাজনৈতিক চাপ তৈরির অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেন তিনি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, টেনেসির সমাবেশে দেওয়া তাঁর এই বক্তব্য হয়তো পুরোপুরি গম্ভীর কোনো প্রশাসনিক পরিকল্পনা নয়। বরং রাজনৈতিক মঞ্চে চমক তৈরি করা, মিডিয়ার মনোযোগ কেড়ে নেওয়া এবং সমর্থকদের আনন্দ দেওয়ার একটি কৌশল। তবে আরেকাংশ মনে করছে নাম বদলের আড়ালে ওই ভৌগোলিক এলাকার উপর মার্কিন আধিপত্য কায়েম করাই লক্ষ্য হোয়াইট হাউসের বর্তমান সর্বময় কর্তার।

তবে ফরমান জারি করলেই তো হয় না। সেটা বাস্তবায়নের ক্ষমতা আদৌ কি আছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের? মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প অভ্যন্তরীণ বা সরকারি নথিতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব মানচিত্রে কোনো জায়গার নাম পরিবর্তন করার নির্বাহী ক্ষমতা রাখেন। তবে আটলান্টিক বা প্রশান্ত মহাসাগরের মতো বিশাল আন্তর্জাতিক জলভাগের নাম যুক্তরাষ্ট্র একা চাইলেই সারা বিশ্বের জন্য পরিবর্তন করতে পারে না। আন্তর্জাতিক বিশ্ব, অন্যান্য দেশ কিংবা রাষ্টসংঘ এই নাম পরিবর্তন মেনে নিতে বাধ্য নয়। এর জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও অন্যান্য দেশের সম্মতি প্রয়োজন।ট্রাম্প বিরোধীরা,এটিকে ট্রাম্পের সস্তা রাজনৈতিক ব্র্যান্ডিং বা প্রতীকী কৌশল হিসেবে দেখছেন।