বিমানে দুই পাইলটকে একই খাবার দেওয়া হয় না কেন? কারণ জানলে অবাক হবেন। বিমানে দুই পাইলটকে (ক্যাপ্টেন এবং ফার্স্ট অফিসার) একই খাবার না দেওয়ার প্রধান কারণ হলো খাদ্য বিষক্রিয়া (Food Poisoning) প্রতিরোধ করা এবং যাত্রীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। প্রতিটি বাণিজ্যিক বিমান উড়ানের নিরাপত্তার পেছনে অত্যন্ত সূক্ষ্ম কিন্তু কঠোর কিছু নিয়ম কাজ করে। তার মধ্যে পাইলটদের খাবার সংক্রান্ত এই নিয়মটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক
দুই পাইলটকে একই খাবার দেওয়া হয় না এর আসল কারণ: নিরাপত্তা ও জরুরি পরিস্থিতি এড়ানো। কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ আছে যেগুলি নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত।
১. উভয় পাইলট একসাথে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি কমানো:
যদি বিমানের খাবারে কোনো কারণে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ বা বিষক্রিয়া থাকে, তবে সেই খাবার খেলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পেটে তীব্র ব্যথা, বমি, মাথা ঘোরা বা জ্ঞান হারানোর মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। যদি দুই পাইলট একই খাবার খান এবং তা খারাপ হয়, তবে ককপিটে থাকা দুজনই একসাথে অসুস্থ হয়ে পড়বেন।
২. একজন সুস্থ থাকার নিশ্চয়তা:
পাইলটদের ভিন্ন ভিন্ন খাবার (যেমন একজন যদি মুরগির মাংস খান, অন্যজনকে মাছ বা খাসির মাংস দেওয়া হয়) দিলে যদি কোনো খাবারে সমস্যা থাকেও, তবে সর্বোচ্চ একজন পাইলট অসুস্থ হতে পারেন। অন্য পাইলট সম্পূর্ণ সুস্থ থাকবেন এবং একা বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করাতে পারবেন।
খাবার পরিবেশনের কঠোর নিয়মাবলী
পৃথক মেনু নির্বাচন: দুই পাইলটের জন্য মেনুর ক্যাটাগরি সম্পূর্ণ আলাদা থাকে।এছাড়াও সাধারণত দুই পাইলট একসাথে বা একই সময়ে খাবার খান না। একজন যখন খাবার গ্রহণ করেন, অন্যজন তখন ককপিটের সমস্ত নিয়ন্ত্রণ এবং বিমান পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন।
ফার্স্ট ক্লাসের বিশেষ সুবিধা: অনেক বিমান সংস্থায় ক্যাপ্টেনকে ফার্স্ট ক্লাস বা বিজনেস ক্লাসের পছন্দমতো খাবার বেছে নেওয়ার অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, আর ফার্স্ট অফিসারকে বিকল্প অন্য একটি আইটেম দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (ICAO) বা বিশ্বের প্রায় সব প্রধান বিমান সংস্থার (যেমন—বোয়িং, এয়ারবাস এবং বিভিন্ন এয়ারলাইন্স) জন্য এটি একটি বাধ্যতামূলক মান্য পদ্ধতি (Standard Operating Procedure)। এটি শুনতে সামান্য মনে হলেও আকাশে শত শত যাত্রীর জীবন রক্ষার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে।