Date : 2020-10-24

সাজানো বসতি নিয়ে আজও অপেক্ষায় রাজস্থানের ‘ক্ষুধিত পাষাণ’

ওয়েব ডেস্ক: ঘর-বাড়ি, মন্দির থেকে জলধারন ক্ষমতা সম্পন্ন পাতকুয়ো, সব রয়েছে। কিন্তু তবুও ২০০ বছর ধরে মানুষের থেকে ব্রাত্য রাজস্থানের কুলধারা গ্রাম। জয়শালমীর থেকে ১৫ কিলোমিটার দুরে অবস্থিত এই গ্রাম ভৌতিক গ্রাম নামেই পরিচিত। তার প্রমানও নাকি আছে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে। কোন এক সময় যোধপুরের পালি সম্প্রদায়ের ব্রাহ্মণরা নাকি এই গ্রামে বাস করতেন। এই মরুভূমিতে তারাই নাকি গমের ফলন করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। কুলধারার সঙ্গে আশেপাশের ৮৩ টি গ্রামও এই সময় গড়ে ওঠে।

কিন্তু ১৮২৫ সালের রাখীপূর্ণিমার রাত ছিল অভিশপ্ত। আশ্চর্য ভাবে গ্রাম থেকে এক নিমেষে ভ্যানিশ হয়ে গিয়েছিল প্রায় ১৫০০ জন গ্রামবাসী। যাদের কোন হদিশ আজও কেউ পায়নি। কিন্তু কিভাবে? কোথায় গেল তারা? প্রশ্নের কোনো নির্ভরযোগ্য উত্তর না থাকলেও তার পিছনে আছে কাহিনী।

বলা হয়‚ স্থানীয় সামন্ত শাসক সালিম সিং নাকি কুলধারা গ্রামের প্রধানের কন্যার প্রেমে পড়েছিলেন। তাঁর রূপে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে বিয়ে করতে চান। হুমকি দেন‚ বিয়ে না দিলে গ্রামবাসীর উপর চাপিয়ে দেওয়া হবে প্রচুর কর। কিন্তু সেই শর্তের পরেও বেঁকে বসেন কুলধারা গ্রামের প্রধান। কন্যার বিয়ে সামন্ত শাসকের সঙ্গে দিতে তিনি নারাজ ছিলেন। সেইসঙ্গে গোটা গ্রামও শপথ নেয়, যত বড় ঝড় আসুক কিছুতেই গ্রামের মেয়ের সঙ্গে সামন্ত শাসকের বিয়ে দেওয়া হবে না। বলা হয়‚ সামন্তের কু-নজর থেকে বাঁচতে রাখীপূর্ণিমার রাতে কুলধারা এবং তার লাগোয়া সব গ্রামের মানুষ কোথাও একটা উধাও হয়ে যান। তাঁরা কি ফের ফিরে যান যোধপুরের পালি এলাকায় ? নাকি বসত গড়েন অন্য কোথাও ? রহস্য আছে কিন্তু উত্তর নেই অনেক প্রশ্নেরই।

ইতিহাসের পৃষ্ঠা থেকে কর্পূরের মতো মিলিয়ে যায় গোটা গ্রামের মানুষ। অন্য সূত্র বলে‚ যুদ্ধের প্রয়োজনে রাতারাতি সরিয়ে ফেলা হয় সবাইকে। আবার এমন কথাও শোনা যায়, সামন্ত শাসক অপমানের বদলা নিতে হত্যা করেছিলেন গ্রামবাসীদের। আর এই ঘটনার পরেই কুলধারা গ্রাম রাতারাতি ভুতের গ্রাম বলে প্রচার হয়ে যায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। একের পর এক ভৌতিক ঘটনার সাক্ষী হতে থাকে ওই গ্রাম। হঠাৎ তাপমাত্রা কমে যাওয়া, মাঝরাতে শিশুর আর্ত চিৎকার শুনতে পাওয়া যায়, এসব ঘটনার শুনে দিল্লির প্যারানর্মাল সোসাইটি থেকে তিরিশ জনের একটি দল গিয়েছিল কুলধারা গ্রামে রাত কাটাতে। তাদের দাবি, সারা রাত তারা অলৌকিক ঘটনার সম্মুখীন হয়েছেন। ঘটনার পিছনে ইতিহাস যাই থাকুক, বহু মানুষের আকাঙ্খা নিয়ে থর মরু লাগোয়া এই জনপদ অপেক্ষা করে আছে ‘ক্ষুধিত পাষাণ’ হয়ে।