Date : 2022-05-25

সপ্তাহে শেষে চার পুরসভার নির্বাচন, কেন্দ্রীয় বাহিনী দেখা মিলবে ,উত্তরের অপেক্ষায় ভোটাররা

ষষ্ঠী চট্টোপাধ্যায়, রিপোর্টার:- রাজ্যের চার পুরসভা বিধাননগর, চন্দননগর, শিলিগুড়ি, এবং আসানসোল পুর সভা নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রসঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষের আইনজীবী বুধবার হাইকোর্টে মামলার শুনানিতে তিনি জানান বিধাননগরে বিভিন্ন জায়গায় বিজেপির পোস্টার ফেস্টুন ছেড়া হচ্ছে। বিজেপির কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে।
২,৪,৮,১৩ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপির ওপর আক্রমণ হয়েছে।
এর আগে বহু নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট হয়েছে। তাই এই নির্বাচন শান্তপূর্ণ ভাবে করতে কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রয়োজন।
বিধাননগরের বাসিন্দাররের পক্ষের আইনজীবী সৃজিব চক্রবর্তী বলেন
আমি কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে নয়, আমি বিধান নগরের বাসিন্দা হিসাবে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। পূর্বের ভোটের অভিজ্ঞতা থেকে আমি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। এর আগে বিধাননগরের নির্বাচনে গন্ডগোল হয়েছে। বিধাননগরে কেন্দ্রীয় বাহিনী না দিলে। ভোটারা ভোট দিতে যেতে ভয় পাবে।
কলকাতা পুরসভা নির্বাচনে সিসিটিভি কাজ করেনি সেই প্রমাণও আমরা পেয়েছি।
রাজ্য নির্বাচন কমিশন ও রাজ্যের কাছে জানতে চাইলেন প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব ৪ পুরনিগমের ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের আইনি পথ কি?
কোন পথ ধরে হাইকোর্ট কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ জারি করতে পারে?
ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষের আইনজীবী পিঙ্কি আনন্দ তাঁর সওয়ালে মাধ্যমে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন অশান্তি, গোলমাল, পূর্বের ভোট অভিজ্ঞতা বিবেচনা করে হাইকোর্ট পারে কেন্দ্রীয় বাহিনী নির্দেশ দিতে।
ত্রিপুরায় কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে পুরভোট হয়েছিল।
আইনজীবী সৃজিব চক্রবর্তী প্রধান বিচারপতি র উদ্দেশ্য বলেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনকেই নিশ্চিত করতে হবে মানুষ যাতে শান্তিপুর্ন ভাবে ভোট দিতে পারেন।

রাজ্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষের আইনজীবী জয়ন্ত মিত্র বুধবার আদালতে বলেন কমিশন সিনিয়র পুলিশ আধিকারিকদের পরামর্শ মতো ও সাহায্যে ব্যবস্থা নিচ্ছে। যাতে শান্তিপুর্ন নির্বাচন হয়। প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তবের প্রশ্নের মুখে নির্বাচন কমিশন তাহলে কলকাতা নির্বাচনের সময় একই কথা বলে ছিলেন। তারপরও দেখা গেলো প্রাথী মারধর সহ বহু অভিযোগ নিয়ে আদালতে আবেদনকারীরা নিয়ম করে রুট মার্চ এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। কমিশন ইতিমধ্যে মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব ও ডি জির সাথে বৈঠক করেছে। কমিশনের পক্ষের আইনজীবী জয়ন্ত মিত্র শুনানিতে জানান অন্যান্য রাজ্যেও এই ধরনের অভিযোগ হয়ে থাকে। এটা রাজনৈতিক দলের কাজ প্রধান বিচারপতি বলেন যদি কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট হয় তাতে আপনার আপত্তি কিছু আছে? কারণ আপনি তো চাইছেন শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের। নির্বাচন কমিশনের পক্ষের আইনজীবী জয়ন্ত মিত্রের উদ্দেশ্য প্রধান বিচারপতির প্রশ্ন :- আপনি বলছেন আবেদন খারিজ করতে। তাহলে কমিশন কি নিজেই সমস্ত দায়িত্ব নিচ্ছেন?
উত্তরে কমিশনের আইনজীবী জয়ন্ত মিত্র বলেন আদালত যদি মনে করে আধা সামরিক বাহিনি মোতায়েন করা দরকার কোর্ট তা করতেই পারে।
তবে সেই নির্দেশ দেওয়ার আগে কোর্ট দেখুক উপযুক্ত পরিস্থিতি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের মত তৈরি হয়েছে কিনা…
উপযুক্ত নথি, তথ্য আদালতের সামনে এসেছে কিনা।
রাজ্যে নিরাপত্তা বন্দোবস্ত পর্যাপ্ত বলার পরও আধা সামরিক বাহিনির প্রয়োজনীয় তা রয়েছে কিনা?
বিজেপিপক্ষের আইনজীবী পিঙ্কি আনন্দ বলেন নির্বাচনে র ফলাফল স্থগিত রাখতে হবে।
উত্তরে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী জয়ন্ত মিত্র বলেন এটা কোনও নিয়ম নেই। যে নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পরেও ফলাফল ঘোষণা স্থগিত রাখতে হবে। গণনা না হলে ওই ই ভি এম গুলো ব্যবহার করা যাবে না। ৪ টে পুরসভায় অনেক ই ভি এম ব্যবহার হবে।প্রভাবের কথা বলছে। ভোটাররা কখনও প্রভাবিত হন না। এমারজেন্সি সময় সেই উদাহরণ আছে। কমিশন এতে বিশ্বাস করে না। পুর সভা ভালো কাজ করার ওপর নির্ভর করে ভোটারদের মানসিকতা।
ফলাফল স্থগিত রাখার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রাজ্যের এডভোকেট জেনারেল সৌমেন্দ্র নাথ মুখোপাধ্যায় আদালতে র উদ্দেশ্য বলেন প্রতিটি পুর সভার বডি আলাদা। সেটার সাথে বিধানসভা এলাকাকে তুলনা করা যায় না। তাই এক সাথে ফলাফল ঘোষণার প্রয়োজন নেই।
EVM এর প্রয়োজনীয়তা থাকলে ফলাফল ভোট হয়ে যাবার পরই ঘোষণা করতে হবে।
তিনি আর জানান আবেদনকারীরা কেউ বলেননি কি ভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে শান্তিপুর্ন নির্বাচন হবে?
বিধানসভা নির্বাচনের সময় কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট হয়েছে। দেখা গেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকা সত্ত্বেও শিতলকুচিতে ৪জনের মৃত্যু হয়েছে। তাহলে কি ভাবে বলা যায় কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকলেই শান্তিপুর্ন নির্বাচন হবে? প্রশ্ন রাজ্যের এডভোকেট জেনারেল সৌমেন্দ্র নাথ মুখোপাধ্যায়ের।
কলকাতা পুসভার ভোট হয়েছে। সিসিটিভি বিষয় কমিশনের। তবে কোথাও সিসিটিভির জন্য ভোট প্রক্রিয়া বন্ধ হয় নি। কারণ পুলিশ সদর্থক ভূমিকা পালন করেছে।
উমাশঙ্কর ঘোষ দস্তিদার, স্বাগতা দের ওপর আক্রমণ, ব্যানার ফেস্টুন ছেড়া সমস্ত অভিযোগের ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ।
আদালত যদি কোনও নির্দেশ দেয় পুলিশ সেটা পালন করবে।
অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ওয়াই জে দস্তুর জানান আমরা প্রস্তুত,২৪ ঘণ্টা সময় পেলে আদালত নির্দেশ দিলে আমরা উপযুক্ত সংখ্যক বাহিনী দিতে পারবো।এজি বলেনকমিশন কে রাজ্য আন্ডারটেক করেছে।
যে নিরাপত্তা বন্দোবস্ত হয়েছে তারপরেও সুষ্ঠু ও অবাধ ভোটের জন্য যে অতিরিক্ত বন্দোবস্ত করতে বলবে, রাজ্য তা করবে।
ভোটারের পক্ষের আইনজীবী সৃজিব চক্রবর্তী বলেন কমিশনের রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে বিধাননগরে একটা পুলিশ স্টেশনের জন্য মাত্র একজন ASI আর লাঠি ধারী পুলিশ। কলকাতা পুরভার ক্ষেত্রেও তাই বলেছিল।
মামলার শুনানি শেষে রায়দান স্থগিত রাখলেন প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ।