Date : 2019-10-17

‘ত্রুপ’ শব্দ থেকেই এসেছে তর্পন, জেনে নিন কেন করবেন তর্পন….

ওয়েব ডেস্ক: মহালয়ার সকালে নিয়ম মেনে আকাশবাণী কলকাতা-র প্রাণপুরুষের কন্ঠস্বরে চণ্ডীপাঠ ধ্বনিত হওয়ার মধ্যে দিয়ে পিতৃপক্ষের অবসানে বাঙালি প্রবেশ করেছে দেবীপক্ষে। হাতে গোনা আর মাত্র কয়েকটা দিন। তারপরেই বোধন অধিবাসের মধ্যে দিয়ে আদ্যাশক্তি মহামায়াকে ঘরের মেয়ে উমা রূপে বরণ করে নেওয়ার পালা। আশ্বিনের শারদপ্রাতে যে ঘোর কালো কৃষ্ণপক্ষের অবসান ঘটিয়ে শুক্লপক্ষে প্রবেশ করি সেই সন্ধিক্ষণকে মহালয়া বলা হয়। “মহা আলয়” অর্থাত মহাআগমণ। দেবী মহামায়া বা আদ্যাশক্তি হলেন আমাদের পরম আশ্রয়। মানবজীবন পরিত্যাগ করে মৃত্যুপরবর্তী সময়ে যে পরম আশ্রয়ে আত্মার স্থান হয় সেই পিতৃলোকের উদ্দেশ্যে আমাদের পূর্বজদের উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন ও তাদের পরমশান্তি প্রার্থনা করার দিন হল মহালয়। এই দিন তাই প্রত্যেকটি গঙ্গারঘাটে সকাল থেকেই শুরু হয় পিতৃতর্পনের কাজ।

‘তর্পন’ শব্দটি এসেছে ‘ত্রুপ’ থেকে, কথার অর্থ খুশি করা। রামায়ণ কাব্যগ্রন্থে বর্ণিত আছে, শ্রী রামচন্দ্র লঙ্কেশ্বর রাবনের হাত থেকে নিজের স্ত্রী সীতাকে উদ্ধার করার জন্য আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের নয়টি রাত্রী ধরে শ্রী শ্রী চণ্ডীর আরাধনা করেছিলেন।

কথিত আছে আশ্বিনের কৃষ্ণপক্ষের শেষে শুক্লপক্ষের শুরুতে রামচন্দ্র তাঁর পিতৃপুরুরষদের খুশি করেছিলেন এই দিনে। সনাতন ধর্মে কোনও শুভ কাজ করতে গেলে প্রয়াত পূর্বজ-সহ সমগ্র জীব-জগতের জন্য তর্পন করতে হয়, কার্যাদি-অজ্ঞলি প্রদান করতে হয়। সেই ত্রেতা যুগ থেকেই মহালয়ার পূণ্য প্রভাতে- ‘ময়া দত্তেন তোয়েন তৃপ্যান্ত ভুবনত্রয়ম, আব্রহ্ম স্তম্ভ পর্যন্তং তৃপ্যন্তু’- এই মন্ত্র উচ্চারণ করে তিন গন্ডুষ জল অঞ্জলি দিয়ে স্মরণ করে চলেছেন তাঁদের বিদেহী পিতৃপুরুষ এবং পূর্বপুরুষকে। আবার পুরাণ মতে মহালয়ার দিনেই দেবী আদ্যাশক্তিকে মহাষাসুর বধের উদ্দেশ্যে কাত্যায়ণ মুণির আশ্রমে আহ্বন করেছিলেন ৩৩ কোটি দেবতা। এই নারীশক্তি হলেন আদিযোনি যা অনন্তকোটি বহ্মাণ্ডের অধিশ্বরী।