Date : 2024-02-25

দুই ‘গায়েন’ এর মন কষাকষি। ইন্দ্রনীল ও বাবুলের মাঝে রেফারি অরূপ

সঞ্জু সুর, সাংবাদিক : রাজ্য মন্ত্রীসভার দুই গায়ককে নিয়ে নিরন্তর জল্পনা ছড়ায় রাজ্যজুড়ে। কখনও বাবুল সুপ্রিয়ের কোনো মন্তব্য ইন্দ্রনীল সেন এর বিরুদ্ধ মত বলে মনে হয়েছে তো কখনও উল্টোটা। কে কাকে টপকিয়ে উপরে উঠলেন না কি নীচে নামলেন, তাই নিয়ে রসালো রসালাপে মাতেন শুধু সাধারণ মানুষ নন, তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ বিধায়ক থেকে শুরু করে মন্ত্রীরাও।

বৃহস্পতিবার রাজ্য বিধানসভার এক ছবি অবশ্য অনেকেরই নজর এড়ায়নি। মাঝখানে বসে রয়েছেন অরূপ বিশ্বাস, তাঁর একদিকে ইন্দ্রনীল সেন আর উল্টোদিকে বাবুল সুপ্রিয়। শরীরী পরিভাষা দুর থেকে দেখে মনে হচ্ছিলো দু’জনের আপাত বিরোধ মীমাংসার দৌত্যে রয়েছেন অরূপ বিশ্বাস।

শুরুটা সম্ভবতঃ বাবুল সুপ্রিয়র তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদানের পরপরই। সেটা বেড়ে যায় অগাষ্ট মাসে বিধানসভা অধিবেশন চলাকালীন একদিন। সেদিন বিধানসভায় মন্ত্রীসভার বৈঠকের পর কিছুটা উত্তেজিত হয়েই কথা বলতে দেখা যায় ইন্দ্রনীল সেন ও বাবুল সুপ্রিয়র মধ্যে। তারপর বিভিন্ন সময় অন রেকর্ড, অফ রেকর্ড একে অপরের বিরুদ্ধে অনেক টিকা টিপ্পনি করেছেন।

এদিন বিধানসভায় অরূপ বিশ্বাস এর মধ্যস্থতায় হ‌ওয়া বৈঠকে মিনিট খানেকের মধ্যে যোগ দেন আরেক মন্ত্রী ব্রাত্য বসু‌ও। অধিবেশন কক্ষের ভিতরে যখন এই ঘটনা ঘটছে তখন সামনের সারিতে বসা মন্ত্রীদের‌ও ঘাড় ঘুরিয়ে সেই কথোপকথন শোনার চেষ্টা করতে দেখা যায়। অবশ্য তারপরেই চার মন্ত্রী অধিবেশন কক্ষের বাইরে বেরিয়ে যান। মিনিট ১৫ পরে ফের তারা ফিরে আসেন অধিবেশন কক্ষে। তারপর আবার মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ঘরে চলে একযোগে আড্ডা। অরূপ বিশ্বাস এর এই দৌত্যে দুই গায়ক মন্ত্রীর মনান্তর কতটা কেটেছে সে প্রসঙ্গে ইন্দ্রনীল সেন বা বাবুল সুপ্রিয় কেউ ই কোনো কথা বলতে রাজি হন নি। তবে বিধানসভায় মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এর ঘরে একে অপরের কাঁধে হাত রেখে গল্প করতে দেখা যায়। দু’জনের শীতল সম্পর্ক উষ্ণ হলো কি না জানা না গেলেও দুই গায়কের গুনগুন হয়তো কিছু ইঙ্গিত দিয়ে গেল। বাবুল সুপ্রিয়র গলায় যখন “প্রেম দিলে পুরো দাও”, ঠিক পাশে বসেই ইন্দ্রনীল সেনের গলায় তখন “তোমায় নুতন করে পাবো বলে হারাই ক্ষণে ক্ষণে”। এবার বাকিটা বোঝার ভার পাঠকের।