Date : 2020-10-30

পরিবেশনের গুণে শুটকি মাছের গন্ধটাই উবে গেছে…

ওয়েব ডেস্ক: রোজকার একটা সাদামাটা গল্প। কিন্তু পরিবেশনের গুণেই মাত “মুখার্জী দা’র বউ“। দুটো হাঁপিয়ে ওঠা মানুষের গল্প। সংসার-সমাজ যাদের শুধু প্রয়োজনে মনে করেছে। দুটো অবিকল এক মানুষই একে অপরের প্রতিদ্বন্দী। লড়াই কখনও সংসারের চাবি, রান্নাঘর অথবা ছেলের উপর কার অধিকার বেশী… মায়ের নাকি বউয়ের? তা নিয়ে। লড়াইয়ে পরিধিও সেখানেই পাততাড়ি গুটিয়েছে।

তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় এক ঝাঁক তারা

সেই গল্পই ফের একবার বলেছে “মুখার্জী দা’র বউ”। আপাতদৃষ্টিতে কুচুটে শাশুড়ি, মুখরা বৌমার রোজকার দিনলিপি বলা যায়। শাশুড়ি’র আক্ষেপ বউমার “মা” ডাকে প্রাণ নেই ।

শারীরিক গঠনই কী নারীত্বের শেষ কথা? প্রশ্ন তুললেন স্বস্তিকা

পাল্টা বউমার অভিযোগ, বাবা-মায়ের একমাত্র মেয়ে,বাপের বাড়ি থাকতে সে কখনও মাছের পেটি ছাড়া খায়নি। বৌভাতের পরের দিন শাশুড়িমা তার পাতে দিয়েছিলেন মাছের সবচেয়ে ছোট পিসটা। তাও আবার পেটি নয় গাদা। মাঝরাতে জ্বরের বাহানায় ছেলে-বৌমার দরজায় ধাক্কা, দেওয়ালে কোন ছবি লাগানো হবে, এই নিয়ে শাশুড়ি শোভারানি (অনসূয়া) ও বৌমা অদিতি (কনীনিকা) মন কষাকষি অনেকটা একঘেয়ে লাগলেও ছবি প্রাণ পেয়েছে যখন পরিচালক পৃথা চক্রবর্তী এর সমাধান খুঁজতে চেয়েছেন। খোকন-অদিতির একরত্তি মেয়ের মুখে ‘বাপের বাড়ি মানে বাবার বাড়ি। তা হলে মায়ের বাড়ি কোনটা?’ প্রশ্নটা যেন ছবির পর্দা ভেদ করে দর্শকাসনে বসা প্রতিটা মানুষকে ভাবতে বাধ্য করেছে।

দল বেঁধে ওরা প্যান্ট খুলে মেট্রোয় চড়ছেন, কিন্তু কেন?

সংসারে এক চিলতে শান্তির খোঁজে বৌমা সাইকোলজিস্টের পরামর্শের কথা ভাবলেও পাশে পায়নি স্বামীকে। সেখানেও লুকিয়ে আরও একটা লড়াই। এরপরই সাইকোলজিস্টের ভূমিকায় আরাত্রিকা (ঋতুপর্ণা)-র আত্মপ্রকাশ। অবশেষে সংসারে শান্তি ফেরাতে হাতে হাত শাশুড়ি-বৌমার। সেখানেই গল্পটা চেনা ছক ভেঙেছে। দর্শকদের মন কেড়েছে শোভারানি-অদিতির একসঙ্গে আইসক্রিম খাওয়া বা গোলাপী জামার পুতুল পেয়ে শাশুড়ির অম্লান হাসি।

গল্পটা শেষ হতে পারতো সেখানেই, কিন্তু ফের বেসুরো হয়েছে জীবন। শাশুড়ির সবুজ পেড়ে শাড়িটা বের করতে গিয়ে অদিতির চোখে পড়ে যায় তার একের পর এক অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার। তবে সব শেষে উইমেনস্ ডে’র মঞ্চে দাঁড়িয়ে ‘মুখার্জী দা’র বউ’ থেকে শোভারানি মুখার্জী ও অদিতি মুখার্জী হয়ে ওঠার লড়াই মুগ্ধ করেছে দর্শকদের। উইমেনস্ ডে’ দৃশ্যটা অবশ্য কিছুটা ছোট হলেও মন্দ হত না।

তবে ছবিটার সাফল্য বোধহয় অন্য জায়গায়। ছবিটা দেখতে গিয়ে পাশেই বসেছিলেন এক শাশুড়ি-বৌমা। হঠাৎই একবার কানে এল “মা দেখো…তুমিও ঠিক এটাই বলো।” সব মিলিয়ে রান্নার গুনে শুটকি মাছের গন্ধটাই উবে গেছে, বাঙাল-ঘটি সব শাশুড়ি-বৌমা একেবারে চেটেপুটে খাবে।