Date : 2024-05-26

অধীর গড়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ, স্লগ হিটার ইউসুফ, গলার কাঁটা নির্মল সাহা

সাংবাদিক : সুচারু মিত্র: ২০ বছর ধরে বহরমপুরে একচ্ছত্র আধিপত্য প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির। আর তাই এবার অধীরকে মাঠের বাইরে ফেলতে স্লগ হিটার ইউসুফ পাঠানকে গুজরাট থেকে নিয়ে এসে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। অন্যদিকে রয়েছেন বিজেপির নির্মল কুমার সাহা। চতুর্থ দফায় ১৩ মে ভোট হচ্ছে বহরমপুরে।

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিজেপি, তৃণমূল কংগ্রেসের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছিল। ২০২১ সালের নির্বাচনে বিজেপি ৭৭টা আসন পেলেও ভোট শতাংশ হার কমে দাঁড়ায় ৩৮.৫ শতাংশ।অধীর চৌধুরীকে এই অঞ্চলের মানুষ জয়যুক্ত করেছেন বারবার, কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনের নিরিখ দেখলে ছবিটা একেবারে উল্টো রকম। ২০২১ সালে অধীর চৌধুরীর গরে বারবার ঘাস ফুল দাপট দেখিয়েছে।বারওয়ান কেন্দ্র থেকে জীবনকৃষ্ণ সাহা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ২৭ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়লাভ করেছিলেন। কান্দি বিধানসভা থেকে অপূর্ব সরকার তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জয়লাভ করেছিলেন। ভরতপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের হুমায়ুন কবীরও জয়লাভ করেছিলেন। শুধু এখানেই শেষ নয়, অনান্য ক্ষেত্রেও দেখা গেছে তৃণমূলের দাপট অনেক বেশি অধীরের গরে, ফলে সেই পরিসংখ্যান ঘাঁটতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে এবার অধীর চৌধুরীর সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে ইউসুফ পাঠানের, মাঝে এক্স ফ্যাক্টর হতে পারেন নির্মল কুমার সাহা, তার কারণ বহরমপুর কেন্দ্রটিতে ২০২১ সালে ভারতীয় জনতা পার্টির সুব্রত মিত্র জয়যুক্ত হয়েছিলেন ২৬ হাজার ভোটে, ফলে এখন দেখার অধীর চৌধুরী কতটা এই কেন্দ্র থেকে এবারও আধিপত্য ধরে রাখতে পারেন?.…..

১৯৯৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে আরএসপির দীর্ঘদিনের ঘাঁটিতে প্রভাব বিস্তার করে জাতীয় কংগ্রেস অধীর চৌধুরীর নেতৃত্বে। সেইবার ১০ শতাংশের বেশি ভোটে জয়যুক্ত হন অধীর চৌধুরী । পরবর্তী কালে ২০০৪, ২০০৯ এ বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন অধীর চৌধুরী।২০১৪ সালেও অধীর রঞ্জন চৌধুরীর জয় রথ থেমে থাকেনি। সময়ের সাথে সাথে ব্যবধান ক্রমশ বাড়তে থাকে। ২০১৪ সালে প্রায় ৩০ শতাংশের বেশি ভোটের মার্জিনে জয়ী হন।২০১৯ সালের নির্বাচনে রাজ্য জুড়ে জাতীয় কংগ্রেস, সিপিআই(এম) সহ অন্যান্য দলগুলির ভোট মার্জিন কমে গিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টি প্রায় ৪০ শতাংশের কাছাকাছি ভোট পায়। কিন্তু বহরমপুর কেন্দ্রটিতে অধীর চৌধুরী জয় লাভ করেন।এবার এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। একদিকে সংখ্যালঘু ভোট ব্যাংক, সেই ব্যাংকেই মাথায় রেখেই মাস্টার স্ট্রোক দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইউসুফ পাঠানকে দাঁড় করিয়ে এই মাস্টার স্ট্রোক দিয়েছেন তিনি।ফলে সংখ্যালঘু ভোট কোন দিকে যায় তার দিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল। ফলে খানিকটা হলেও বেশ চাপে অধীর। ইউসুফ পাঠান যে তার কাছে কঠিন চ্যালেঞ্জতা বোধ হয় মনে মনে মানছেন বহরমপুরের বেতাজ বাদশা, তবে গলার কাঁটা বিজেপির নির্মল কুমার সাহা ও।কি হতে চলেছে বহরমপুর কেন্দ্রে তা পরিস্কার হওয়া যাবে ৪ঠা জুনের ফলাফল দেখেই।

আরও পড়ুন : নিউটাউন চত্বরে দখল করে গড়ে ওঠা তৃণমূল কংগ্রেসের ৩৫ টি পার্টি অফিস অবিলম্বে ভেঙে ফেলার নির্দেশ হাইকোর্টের