Date : 2019-06-27

“পদত্যাগ করতে চেয়েছি” : বৈঠক শেষে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

কলকাতা: “পাঁচ-ছয় মাস ধরে আমায় কাজ করতে দেয়নি। ক্ষমতাহীন মুখ্যমন্ত্রী ছিলাম।” ভোট বিপর্যয়ের পর এই প্রথম সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানালোন মুখ্যমন্ত্রী। ৪২-এ ৪২টি আসনের দাবি রেখে নির্বাচনী প্রচারে নেমেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। গণনা শুরু হতেই প্রায় অর্ধেক আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের গেরুয়া শিবির তৃণমূলের থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে আসন।

লোকসভা বিপর্যয়ের কারণ খুঁজতে এদিন বৈঠকে বসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাংগঠনিক ক্ষেত্রে রদবদল আনেন তৃণমূল সুপ্রিমো। কালীঘাটের বাড়িতে এদিন উপস্থিত ছিলেন দলের জয়ী ও পরাজিত প্রার্থীরা।

জয়ী এবং পরাজিত অনেকের হাতেই তিনি জেলা সংগঠনের দায়িত্ব দেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারীকে সরকারি কর্মী সংগঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ঝাড়গ্রামে বীরবাহা সোরেনকে জেলা সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। মালদহের সংগঠনের দায়িত্ব ন্যস্ত করেন মৌসম বেনজির নূরের হাতে।

এদিন তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “আমি দলের সদস্যদের কাছে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিতে চেয়েছিলাম।আমার বিবেকে লেগেছে। তাই চেয়ার নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে রাজি নই। সারাজীবন লড়াই করেছি। এটাই আমার উদ্দেশ্য। লড়াই চালিয়ে যাব”।

কমিশনের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এদিন দাবি করেন, “হিন্দু মুসলিমের রাজনীতি করে বিজেপি জিতেছে। কমিশন সব বুঝেও বসে থেকেছে।” বাহিনী এবং বিচার ব্যবস্থাকেও বিজেপি নিয়ন্ত্রণ করেছে বলে এদিন তোপ দাগেন মমতা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখা তার কবিতা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “ সব ধর্মেরই নম্রতা ও উগ্রতা আছে। আমরা ধর্মের নম্রতার জাগরণে বিশ্বাসী। আমার লেখা কবিতা ইতিহাস হয়ে থাকবে।”

উল্লেখ্য, এদিন মখ্যমন্ত্রী নিজের পদত্যাগ প্রসঙ্গ তুলে এনেছেন এবং আগামীদিনে বাংলায় ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সমতার বার্তাকে নিয়ে রাজনৈতিক আনন্দোলন এগিয়ে নিয়ে যাবেন এমনটাই মতামত পোষণ করেন। আগামী ৩১-এ মে ফের দলের সংগঠনিক বৈঠকের কথা এদিন ঘোষণা করেন।