Date : 2019-09-19

ক্যান্সারে আক্রান্ত কেশবিহীন মহিলাদের উদ্দেশ্যে নিজের চুল দান করে নজির গড়লেন এই আর.জে…

ওয়েব ডেস্ক: রাপুনজেলের কথা মনে আছে? লম্বা টাওয়ারের মাথায় বসে তার সুন্দর সাজানো সোনালী রঙের কেশ ঝুলিয়ে বসে থাকত রাজকন্যে। আর সেই চুল বেয়ে উঠে আসত তার স্বপ্নের রাজকুমার। প্রতিটি নারীর কাছেই তার কেশের থেকে প্রিয় জিনিস আর কিই বা আছে!

কিন্তু যদি কোনোদিন সেই প্রিয় জিনিসটাই আপনার কাছে থেকে কেউ কেড়ে নেয় তাহলে? ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে কেমোথেরাপির দাপটে সেই প্রিয় চুলকে জলাঞ্জলী দেওযার মত ঘটার সাক্ষী হয়েছেন বহু মহিলাই। তাহলে তাদের কি হবে? তাদের চুলের বহর দেখে কোনোদিনই কি কোনো রাজকুমার আসবে না? মাত্র ২৫ বা বছর ৩০এর মেয়েটার কি এই কারণটার জন্য তকমা লাগবে বিবাহ-অযোগ্যার? তার সমস্ত কেরিয়ার কি এক নিমেষে ধুলিস্যাৎ হয়ে যাবে এই কারণে? ‘ন্যাড়া’ শব্দটির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া কি এতোটাই সহজ!

ওদের ন্যাড়া মাথা দেখে শুধুই সহানুভুতির সাগরেই কেটে যাবে বাকি জীবন! কিন্ত তারাও তো নারী, তাঁদেরও তো ইচ্ছের বারুদে আগুন জ্বালানোর শখ জাগে মনে। তবে উপায় কোথায়!

ঠিক এই উপায়েরই সংস্থানে কাজ করে কিছু সংগঠন। যাদের কাজই হল এই ক্যান্সারে আক্রান্ত তরুণীদের কেশ পরিচর্যায় সাহায্য করেন। তেমনই এক মুম্বইয়ের cope with cancer নামক একটি সংগঠনকে বিনা দ্বিধায় নিজের চুল দান করেছেন লাবণ্য দত্ত। এই সংগঠনটি সত্যিকরের চুল দিয়ে ক্যানসার আক্রান্ত বাচ্চাদের জন্য উইগ তৈরি করেন। দিন সাতেক আগেই নির্দিধায় নিজের মাথার সমস্ত চুল কেটে দান করেছেন লাবণ্য এই সংস্থাকে।

পেশাগতভাবে লাবণ্য একটি বেসরকারি রেডিও চ্যানেলের আর.জে.। এছাড়াও সঞ্চালীকা হিসেবেও তাঁর নাম আকাশ ছোঁয়া। মাত্র ৩০শের কোঠায় দাঁড়িয়ে তিনি তাঁর জীবনের এতো বড় একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস করেছেন। Roaming partner এর উদ্দোগেই এতো বড় পদক্ষেপটা নেওয়ার মানসিক শক্তি পেয়েছেন লাবণ্য। তৈরি করেছেন নিজের জন্য এক অন্য পরিচয়। মারণরোগে আক্রান্ত মানুষগুলোর মুখে সামান্য হলেও হাসি ফোটাতে পেরেছেন, এটাই বা কম কি! এতেই খুশি লাবণ্য!

ক্যান্সারে আক্রান্ত সেইসব মেয়েরা যাঁরা কেমোর প্রভাবে আজ কেশবিহীন, সেইসব নারীর কাছে আজ লাবণ্য শুধুই একজন সাধারণ মানুষ নয়, যেন এক ফরিস্তা!