Date : 2020-09-30

বর্ণ ও লিঙ্গ বৈষম্যের প্রাচীর ভেঙে সরস্বতী পুজো করছেন আদিবাসী ছাত্রী

মালদহ: যেকোন পুজোর আয়োজন গুছিয়ে করতে গেলেই মেয়েদের উপস্থিতির কথা আসে। কিন্তু পুজোর মন্ত্রপাঠ ব্রাহ্মণ ছাড়া নৈব নৈব চঃ। সময়ের পরিবর্তনে মহিলা পুরোহিতের কথা শোনা গেলেও বিশেষ কিছু ক্ষেত্র ছাড়া পুজোপাঠে তাদের উপস্থিতি এখনও বিরল। আজও কোনও মহিলাকে পুরোহিতের স্থানে বসাতে গিয়ে দু’বার ভাবেন, সমাজের বেশিরভাগ মানুষ। তবে সেই সিংহভাগ মানুষের তালিকায় না থেকে নজির গড়ল মালদহের দাল্লা চন্দ্রমোহন হাইস্কুলের শিক্ষকরা। সেখানে এবার সরস্বতী পুজো করবেন একাদশ শ্রেণীর আদিবাসী ছাত্রী। তাঁকে পুজোয় সাহায্য করবেন অব্রাহ্মণ শিক্ষক বিনয় বিশ্বাস।

নিজের জেলাতেই পোস্টিং পাবেন শিক্ষকরা, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

মালদহের হবিবপুরের সীমান্ত লাগোয়া গ্রাম দাল্লা এবার এই চেনা ছক ভাঙার খেলায় মেতে উঠল। আপাত দৃষ্টিতে মনে হবে আদিবাসী, রাজবংশী ও নমঃশুদ্র প্রধান ওই গ্রামে কুসংস্কারাচ্ছন্ন। ১৯৬৪ সালে মালদহের দাল্লা গ্রামে তৈরি হয়েছে চন্দ্রমোহন হাইস্কুল। এই স্কুলের শিক্ষকদের এমন অভিনব পদক্ষেপ শুধু দাল্লা গ্রামকে নয় গোটা সমাজকেই বার্তা দেবে বলে মনে করছেন সকলে। একসময় বাল্যবিবাহ রোধে অনেক কাজ করেছিলেন এই স্কুলের শিক্ষকরা। বর্তমানে নাবালিকার বিয়ে রুখে কন্যাশ্রী দিবসে এই স্কুলের বিশেষ স্বীকৃতি মিলেছে।

এবার জাত-পাত, লিঙ্গ বৈষম্যের উর্ধ্বে উঠে সরস্বতী পুজোয় মহিলা পুরোহিতের চিন্তাভাবনা করেছে। ওই স্কুলের একাদশ শ্রেনীর ছাত্রী রোহিলা হেমব্রেম এবার চন্দ্রমোহন হাইস্কুলের পুরোহিত। রোহিলা ওই গ্রামেরই আদিবাসী পরিবারের মেয়ে তাঁর সহকারী হিসাবে কাজ করবেন সহপাঠী বিনয় বিশ্বাস। শিক্ষকদের বক্তব্য, ব্রাহ্মণ-অব্রহ্মণ নয়, পুজোয় ভক্তিই যে আসল সে বার্তাই আমরা পড়ুয়াদের দিতে চাই। গ্রামের সকলেই এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। জাত-পাতের বৈষম্যকে ভুলে ভারতের সার্বভৌমত্বের ঐতিহ্যকে তুলে ধরে সুন্দর বার্তা দিয়েছে দাল্লা গ্রামের চন্দ্রমোহন হাইস্কুল।