Date : 2019-11-19

মহাশ্মশানে জ্যান্ত হয়েছিল উঠেছিল মরা মানুষ! স্বপ্ন দিয়েছিলেন জটাধারী মা তারা….

ওয়েব ডেস্ক: শরৎকালের শুক্লপক্ষের চতুর্দশী তিথি, অর্থাৎ কোজাগরী লক্ষ্মী পুজোর ঠিক আগের দিন রাতের ঘটনা। দ্বারকা নদীর উপর দিয়ে দীর্ঘপথ অতিক্রম করে বজরা নিয়ে বনিক জয় দত্ত চলে ছিলেন বানিজ্যে। তখন বীরভূমের তারাপুর ছিল ঘন জঙ্গলে পূর্ণ। দ্বারকা নদীর দুই ধারে ছিল গভীর ও ভয়ানক শ্মশানভূমি। যাত্রা পথেই প্রাণ হরিয়ে ছিলেন বনিক জয় দত্তের পুত্র। মৃত পুত্রকে নিয়ে শোকে তাপে জর্জরিত বনিকের তখন দিশাহারা অবস্থা। তারাপুরের এই ভয়ানক শ্মশানভূমিতে এসে মৃত পুত্রকে নিয়ে দাঁড়িয়েছিল তাঁর বজরা। অনাহারে, শোকে ক্ষুধার্ত বনিকের কাছে বজরার অন্যান্য কর্মীরা খাদ্যের সংস্থান করার কথা বলেন। শোকে তাপে অন্যজল ত্যাগী বনিকের সহকারীরা ক্ষুধা মেটাতে নদীর জলে খেলা করা শোল মাছ ধরেন পুড়িয়ে খাওয়ার জন্য।

আরও পড়ুন : #দেবীমহাগৌরী: ইনি হলেন কাশীর অন্নপূর্ণা দেবী

শোল মাছ ধরে কেটে মাছ ধোয়ার জন্য মহাশ্মশানের ধারে দ্বারকা নদীর জলে গেলে দেখা যায় মৃত মাছ এক লাফে জীবিত হয়ে জলে চলে যায়। এই অবাক কাণ্ড দেখে বনিকের মাথায় হাত! ঘটনার কোন ব্যাখ্যা না পেয়ে নিজের মৃত ছেলেকেও নদীর জলে ফেলে দেন জীবিত হয়ে যাওয়ার আশায়। কথায় আছে বিশ্বাসে মেলায় বস্তু তর্কে বহুদূর। যেমন ভাবা তেমন কাজ। দ্বারকার জলে পড়া মাত্রই বনিকের মৃত পুত্র ফিরে পায় জীবন। এই সেই মহাশ্মশানভূমি যেখানে আশ্বিন মাসের শুক্লা চতুর্দশীর রাতে অলৌকিক ঘটনা ঘটার পর বনিক জয়দত্তের স্বপ্নে আবির্ভূত হন জটাধারী,সারা শরীরে স্বর্প বেষ্টিত, পিঙ্গলা, ভীষণা রূপের এক দেবী।যাঁর দক্ষিণ হস্তে সুরা পাত্র, অন্য হস্তে নীল পদ্ম। বাম হস্তে কাঁচি ও কাতাল। পুরাণে বর্ণিত আছে তিনি স্বয়ং মহাদেবের আরাধ্যা।

আরও পড়ুন : #দেবীকালরাত্রী: গ্রহদোষ থেকে মুক্তি পেতে আজই মায়ের স্মরণাপন্ন হন

তিনি জগৎমাতৃস্বরূপা মা তারা। বনিক জয় দত্তকে তিনি নির্দেশ দেন এই তারাপুর মহাশ্মশানে তাঁর মন্দির প্রতিষ্ঠা করার জন্য। কথিত আছে পরদিন সকাল দ্বারকা নদীর জলেই নাকি ভেসে এসেছিল মায়ের শিলাব্রহ্মময়ী মূর্তি। শিলার উপর খোদাই করা ছিল সন্তানকে স্তনদাত্রী মাতৃমূর্তি। পুরাণে হলাহল কাণ্ডে মহাদেবকে বিষের জ্বালা থেকে মুক্ত করতে দেবী মহামায়া তাঁর মাতৃস্তন দান করেছিলেন। এই মূর্তিতে ফুটে থাকা অবয়বে সেই দেবীর আরাধনা করা হয়। তারাপীঠে আজ গর্ভগৃহ থেকে বের করে আনা হয় মায়ের শিলারূপ। মন্দিরের পাশে ‘বিরাম মঞ্চে’ রাখা হয় দেবীকে।

মায়ের মুখ সারা বছর উত্তরে থাকলেও এই দিনে তাঁকে পশ্চিম মুখ করে বসানো হয়। এ দিন দুপুরে মায়ের কোনও অন্নের ভোগ হয় না। এর জন্য তারাপীঠের সেবাভিতদের বাড়িতেও ভাত রান্না হয় না। রাতে ভোগ রান্নার এবং বিশেষ পূজাচর্না হয়। এ দিনের পুজো অনেকের কাছে তারাপুজো নামে প্রচলিত। আগে এই পুজো উপলক্ষে তারাপীঠে গ্রামীণ মেলা বসত। কিন্তু কালের বিবর্তনে সেই মেলা এখন অবলুপ্ত হয়ে গিয়েছে।

অন্য দিকে, লাভপুরে এই দিনেই তারামায়ের পুজোর আয়োজন করেছেন তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারের সদস্যরা। পুরোহিত সুভাষ ভট্টাচার্য জানান, শতাব্দী প্রাচীন এই পুজোর প্রচলন হয়েছিল ১৮৯৭ সালে। কথিত আছে, লাভপুরের জমিদার হরিদাস বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘদিন নিঃসন্তান ছিলেন। সন্ন্যাসী রামজী গোঁসাইয়ের নির্দেশে আশ্বিন মাসের শুক্লা চতুর্দশীতে তারামায়ের পুজো করেন এবং সন্তান লাভ করেন। তারা চতুর্দশীকে নিয়ে এমন অনেক ঘটনা প্রচলিত আছে।